বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬: সার্কুলার, আবেদনের যোগ্যতা, আসন সংখ্যা, অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ও লিখিত প্রস্তুতি গাইডলাইন ⚙️🎓
বাংলাদেশের প্রতিটি বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষার প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET - Bangladesh University of Engineering and Technology)। বিশ্বমানের পাঠ্যক্রম, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং প্রকৌশলবিদ্যার অনন্য ঐতিহ্যের কারণে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতা।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে যারা বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছ, তাদের সুবিধার জন্য এই আর্টিকেলে বুয়েট ভর্তি সার্কুলার ২০২৬ (BUET Admission Circular 2026)-এর প্রতিটি খুঁটিনাটি তুলে ধরা হলো—যার মধ্যে রয়েছে আবেদনের সঠিক যোগ্যতা, বিভাগভিত্তিক আসন সংখ্যা, অনুমোদিত ক্যালকুলেটরের তালিকা, প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার মানবণ্টন এবং বিগত ২০ বছরের প্রশ্নব্যাংক আয়ত্ত করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
📌 এক নজরে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬ (Quick Overview)
| বিষয়ের নাম | ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তথ্য ও সার্কুলার বিবরণ |
|---|---|
| বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম | বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) |
| অফিসিয়াল ভর্তি পোর্টাল | buet.ac.bd/admission |
| পরীক্ষার পদ্ধতি | দুই ধাপ: ১) প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং (MCQ) এবং ২) চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষা (Written) |
| সর্বমোট আসন সংখ্যা | ১,৩০৯টি (সাধারণ ১,৩০৫টি + সংরক্ষিত কোটা ৪টি) |
| প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থী সংখ্যা | প্রাথমিক আবেদনকারীদের মধ্য থেকে শীর্ষ ২৪,০০০ জন |
| লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত | প্রিলিমিনারি থেকে মেধার ভিত্তিতে শীর্ষ ৬,০০০ জন |
| ক্যালকুলেটর ব্যবহার | ✅ অনুমোদিত নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর গ্রহণযোগ্য |
| সেকেন্ড টাইম (Second Time) | ❌ কোনো সেকেন্ড টাইম সুযোগ নেই |
| নেগেটিভ মার্কিং | প্রিলিমিনারিতে প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন (লিখিত পরীক্ষায় কোনো নেগেটিভ মার্কিং নেই) |
📋 বুয়েট ভর্তির আবেদনের যোগ্যতা ২০২৬ (Eligibility Criteria)
বুয়েটে আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় নির্দিষ্ট কিছু কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়:
১. এসএসসি / সমমান পরীক্ষা:
- যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ (GPA 4.00) থাকতে হবে।
- গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন—এই তিন বিষয়ে আলাদাভাবে ন্যূনতম ‘A’ গ্রেড বা সমমান গ্রেড থাকতে হবে।
২. এইচএসসি / সমমান পরীক্ষা ২০২৬:
- বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৫.০০ (GPA 5.00) অর্জন করতে হবে।
- এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং উচ্চতর গণিত—এই তিনটি বিষয়েই পৃথকভাবে লেটার গ্রেড ‘A+’ (গ্রেড পয়েন্ট ৫.০০) থাকতে হবে। অর্থাৎ ৩টি বিষয়ে সর্বমোট গ্রেড পয়েন্ট হতে হবে ১৫.০০।
- এইচএসসিতে ইংরেজি ও বাংলা বিষয়ে ন্যূনতম ‘A’ গ্রেড (গ্রেড পয়েন্ট ৪.০০) থাকতে হবে।
🔍 ২৪,০০০ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীর শর্টলিস্ট কীভাবে তৈরি হয়? (Cutoff Analysis)
যেহেতু লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০০ এবং পদার্থ, রসায়ন ও গণিতে A+ পেয়ে আবেদন করে, তাই বুয়েট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং উচ্চতর গণিত—এই ৩ বিষয়ের প্রাপ্ত মূল নম্বর (Marks) যোগ করে মেধা তালিকা তৈরি করে।
- বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৩টি বিষয়ে মোট নম্বর (৩০০ এর মধ্যে) সাধারণত ২৭০ থেকে ২৭৫+ নম্বরের ওপরে থাকলে শীর্ষ ২৪,০০০ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীর তালিকায় স্থান পাওয়া নিশ্চিত হয়।
🏛️ বিভাগভিত্তিক আসন সংখ্যা ২০২৬ (BUET Seat Capacity & Department Breakdown)
বুয়েটের প্রকৌশল, পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের আসন সংখ্যা নিম্নরূপ:
| অনুষদ (Faculty) | বিভাগের নাম (Department) | সাধারণ আসন | কোটা আসন | মোট আসন |
|---|---|---|---|---|
| তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল | কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) | ১২০ | - | ১২০ |
| ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) | ১৯৫ | ১ | ১৯৬ | |
| বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (BME) | ৩০ | - | ৩০ | |
| যন্ত্রকৌশল অনুষদ | মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ME) | ১৮০ | ১ | ১৮১ |
| ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (IPE) | ১২০ | - | ১২০ | |
| নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং (NAME) | ১২০ | - | ১২০ | |
| পুরকৌশল অনুষদ | সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (CE) | ১৯৫ | ১ | ১৯৬ |
| ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং (WRE) | ৩০ | - | ৩০ | |
| প্রকৌশল অনুষদ | কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ChE) | ১২০ | - | ১২০ |
| মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (MME) | ১২০ | - | ১২০ | |
| স্থাপত্য ও পরিকল্পনা | আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (URP) | ৩০ | - | ৩০ |
| আর্কিটেকচার (Architecture - ৫ বছর মেয়াদী) | ৫৫ | ১ | ৫৬ | |
| সর্বমোট | ১২টি বিভাগ | ১,৩০৫ | ৪ | ১,৩০৯ |
🖩 বুয়েট অনুমোদিত ক্যালকুলেটরের অফিসিয়াল তালিকা (BUET Approved Calculator List)
বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ ও লিখিত উভয় পর্বেই ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ থাকে। তবে কোনো ধরনের প্রোগ্রাম সংরক্ষণযোগ্য (Programmable) বা মেমরি স্টোরেজযুক্ত ক্যালকুলেটর নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
✅ যেসব মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে:
- Casio Series:
- Casio fx-991EX (ClassWiz) - সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দ্রুততম
- Casio fx-991CW (নতুন মডেল)
- Casio fx-991ES / fx-991ES Plus (1st & 2nd Edition)
- Casio fx-991MS / fx-100MS / fx-570ES Plus / fx-570MS
- Sharp Series:
- Sharp EL-506P / EL-506V / EL-506W
- Sharp EL-520P / EL-531 Series
- Canon Series:
- Canon F-789SGA / F-715SG
- Texas Instruments:
- TI-30X Pro / TI-36X Pro
⚠️ সতর্কতা: Casio fx-9860G, fx-CG50, fx-5800P, TI-84 Plus, TI-Nspire-এর মতো গ্রাফিং ও প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর নিয়ে পরীক্ষার হলে গেলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়।
📝 পরীক্ষার কাঠামো ও বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন (BUET Marks Distribution)
বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা দুই ধাপে সম্পন্ন হয়:
[প্রাথমিক আবেদন]
↓ (এইচএসসি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ নম্বরের ভিত্তিতে সেরা ২৪,০০০ শিক্ষার্থী)
[ধাপ ১: প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (MCQ - ১০০ নম্বর, ৬০ মিনিট)]
↓ (প্রিলির মেধা তালিকার শীর্ষ ৬,০০০ শিক্ষার্থী)
[ধাপ ২: চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষা (Written - ৪০০ নম্বর, ২ ঘণ্টা)]
↓
[চূড়ান্ত ফলাফল ও ১,৩০৯ জনের মেধা তালিকা প্রকাশ]
১. ধাপ ১: প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং পরীক্ষা (Preliminary MCQ Test)
- পূর্ণমান: ১০০ নম্বর (১০০টি প্রশ্ন, প্রতিটির মান ১ নম্বর)।
- সময়: ১ ঘণ্টা (৬০ মিনিট)।
- পরীক্ষার শিফট: শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপে (শিফট ১: সকাল ১০টা এবং শিফট ২: দুপুর ৩টা) ভাগ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। দুই শিফটের রেজাল্ট স্ট্যান্ডার্ড নরম্যালাইজেশনের মাধ্যমে সমন্বিত করা হয়।
- মানবণ্টন:
- পদার্থবিজ্ঞান: ৩৪ নম্বর (৩৪টি প্রশ্ন)
- রসায়ন: ৩৩ নম্বর (৩৩টি প্রশ্ন)
- উচ্চতর গণিত: ৩৩ নম্বর (৩৩টি প্রশ্ন)
- নেগেটিভ মার্কিং: প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে।
২. ধাপ ২: চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষা (Final Written Examination)
প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ শীর্ষ ৬,০০০ শিক্ষার্থী চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায়।
- গ্রুপ ‘ক’ (ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইউআরপি বিভাগসমূহ):
- পূর্ণমান: ৪০০ নম্বর (সময়: ২ ঘণ্টা)।
- উচ্চতর গণিত: ১৪টি প্রশ্ন × ১০ = ১৪০ নম্বর
- পদার্থবিজ্ঞান: ১৩টি প্রশ্ন × ১০ = ১৩০ নম্বর
- রসায়ন: ১৩টি প্রশ্ন × ১০ = ১৩০ নম্বর
- গ্রুপ ‘খ’ (স্থাপত্য অনুষদ / আর্কিটেকচার):
- ইঞ্জিনিয়ারিং অংশের ৪০০ নম্বরের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২৫০ নম্বরের মুক্তহস্ত অঙ্কন (Freehand Drawing) ও দৃষ্টিগত অভীক্ষা পরীক্ষা নেওয়া হয় (অতিরিক্ত সময়: দেড় ঘণ্টা)। সর্বমোট নম্বর: ৬৫০।
📚 বুয়েট প্রস্তুতিতে বিষয়ভিত্তিক স্ট্র্যাটেজি ও সেরা বইয়ের তালিকা
১. উচ্চতর গণিত (Higher Math - ১৪০ নম্বর লিখিত)
লিখিত পরীক্ষার সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে থাকে গণিত। এখানে কোনো শর্টকাট কাজে আসে না, প্রয়োজন সম্পূর্ণ নির্ভুল গাণিতিক ডিরাইভেশন ও যৌক্তিক ধাপ।
- মাস্ট-রিড চ্যাপ্টারসমূহ:
- ক্যালকুলাস: স্যান্ডউইচ উপপাদ্য, লেবনিজের সূত্র, পরামিতিক সমীকরণের অন্তরীকরণ, ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সুনির্দিষ্ট সমাকলন।
- কণিক: পরাবৃত্ত, উপবৃত্ত ও অধিবৃত্তের স্পর্শক, অভিলম্ব ও নিয়ামকরেখার সমীকরণ।
- ত্রিকোণমিতি: বিপরীত ত্রিকোণমিতিক ফাংশন ও সাধারণ সমাধান নির্ণয়।
- বলবিদ্যা (স্থিতিবিদ্যা ও গতিবিদ্যা): লামির উপপাদ্য, বলের ত্রিভুজ সূত্র, প্রাস এবং ত্বরণ-মন্দনের বাস্তব গ্রাফ।
- প্রস্তুতির সহায়ক বই: প্রফেসর এস. ইউ. আহাম্মদ / কেতাব উদ্দীন স্যারের মূল বই, বুয়েট ভর্তি প্রশ্নব্যাংক এবং আইআইটি জেইই (JEE Main) ম্যাথ প্রবলেম সেট।
২. পদার্থবিজ্ঞান (Physics - ১৩০ নম্বর লিখিত)
বুয়েট ফিজিক্সের প্রতিটি অঙ্ক একাধিক সূত্র ও অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত হয়। বাস্তব জীবনের সমস্যাকে বিজ্ঞানের গাণিতিক ভাষায় রূপান্তর করার দক্ষতাই এখানে মূল বিষয়।
- গুরুত্বপূর্ণ টপিক:
- নিউটনিয়ান বলবিদ্যা: ঘূর্ণন গতিশক্তি, কৌণিক ভরবেগ সংরক্ষণশীলতা, ঘর্ষণযুক্ত ব্যাংকিং ও জড়তার ভ্রামক।
- কাজ, শক্তি ও ক্ষমতা: অসম বল দ্বারা কৃতকাজ, স্প্রিং ব্লকের সংঘর্ষ ও শক্তি ক্ষয়।
- তাপগতিবিদ্যা: কার্নো চক্রের দক্ষতা, এনট্রপির পরিবর্তন ও গ্যাসীয় রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া।
- স্থির ও চলতড়িৎ: কার্শফের জটিল বর্তনী বিশ্লেষণ, হুইটস্টোন ব্রিজ ও ধারকের সঞ্চিত শক্তি।
- প্রস্তুতির সহায়ক বই: ড. শাহজাহান তপন ও আমির হোসেন স্যারের টেক্সটবুক, বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্নব্যাংক, কনসেপ্ট বুক এবং এইচসি ভার্মা (Concepts of Physics Vol 1 & 2)-এর নির্বাচিত অংক।
৩. রসায়ন (Chemistry - ১৩০ নম্বর লিখিত)
অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রত্যাশী রসায়নকে অবহেলা করে, কিন্তু বুয়েটে টপ ৫০০ র্যাংক নিশ্চিত করতে রসায়নই হলো সবচেয়ে সহজ ও নিশ্চিত স্কোরিং হাতিয়ার।
- গুরুত্বপূর্ণ টপিক:
- গুণগত রসায়ন: দ্রাব্যতা গুণফল (), আয়ন শনাক্তকরণ ও বোর পরমাণু মডেলের রেডবার্গ সমীকরণ।
- রাসায়নিক পরিবর্তন: ও -এর গাণিতিক সমস্যা, বাফার দ্রবণ, হেন্ডারসন-হ্যাসেলবাল্ক সমীকরণ ও পিএইচ নির্ণয়।
- পরিমাণগত রসায়ন: জারণ-বিজারণ আয়ন-ইলেকট্রন পদ্ধতি ব্যালেন্সিং, টাইট্রেশন, মোলারিটি ও শতকরা সংযুতির হিসাব।
- জৈব রসায়ন: অ্যালডল ঘনীভবন, ক্যানিজারো বিক্রিয়া, গ্রিগনার্ড বিকারক, বেনজিন চক্রের ইলেকট্রনাকর্ষী প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ার কৌশল (Mechanism)।
- প্রস্তুতির সহায়ক বই: সঞ্জিত কুমার গুহ / ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী স্যারের টেক্সটবুক এবং বিগত বছরের বুয়েট কেমিস্ট্রি লিখিত সমাধান।
💻 অনলাইনে আবেদনের ধাপে ধাপে নির্দেশিকা (Step-by-step Online Application)
বুয়েটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে কীভাবে নির্ভুলভাবে আবেদন সম্পন্ন করবে:
- ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রবেশ: ব্রাউজার থেকে সরাসরি www.buet.ac.bd অথবা অফিশিয়াল অ্যাডমিশন পোর্টালে ভিজিট করো।
- এসএসসি ও এইচএসসি তথ্য প্রদান: এসএসসি ও এইচএসসির রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পাসের বছর লিখে সাবমিট করো। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তোমার প্রাপ্ত গ্রেড ও নম্বর যাচাই করবে।
- ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড:
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (৩০০ × ৩০০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ১০০ KB)।
- প্রার্থীর সুস্পষ্ট স্বাক্ষর (৩০০ × ৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ KB)।
- গ্রুপ নির্বাচন: গ্রুপ ‘ক’ (ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইউআরপি) অথবা গ্রুপ ‘খ’ (ইঞ্জিনিয়ারিং + আর্কিটেকচার) সিলেক্ট করো।
- আবেদন ফি পরিশোধ: সোনালী ব্যাংক অনলাইন, রকেট, নগদ বা বিকাশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন ফি জমা দিয়ে ট্রানজাকশন আইডি (TrxID) নিশ্চিত করো।
- কনফার্মেশন স্লিপ সংরক্ষণ: পেমেন্ট সম্পন্ন হলে অ্যাপ্লিকেশন কনফার্মেশন ফর্ম ও স্লিপটি প্রিন্ট করে যত্নসহকারে নিজের কাছে সংরক্ষণ করো।
❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা (BUET Admission 2026 FAQs)
১. বুয়েটে কি কোনো সেকেন্ড টাইম সুযোগ আছে?
উত্তর: না। বুয়েটে কোনো প্রকার সেকেন্ড টাইম (Second Time) সুযোগ নেই। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
২. বুয়েট প্রিলিমিনারির জন্য কাট-অফ মার্কস সাধারণত কত হয়?
উত্তর: প্রিলিমিনারিতে ১০০ নম্বরের মধ্যে সাধারণত ৬৫ থেকে ৭০+ নম্বর পেলে লিখিত পরীক্ষার জন্য শীর্ষ ৬,০০০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়।
৩. লিখিত পরীক্ষার খাতায় কতটুকু জায়গা বরাদ্দ থাকে?
উত্তর: প্রতিটি ১০ নম্বরের প্রশ্নের নিচে প্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তাকার বক্স (বইয়ের পাতার অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ সাইজ) দেওয়া থাকে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো লুজ শিট দেওয়া হয় না। তাই অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা পরিহার করে সরাসরি প্রয়োজনীয় সূত্র ও ক্যালকুলেশন লিখতে হবে।
৪. বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কি শর্ট সিলেবাসে হবে নাকি ফুল সিলেবাসে?
উত্তর: এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষা যে সিলেবাস অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়, বুয়েট ভর্তি পরীক্ষাও শতভাগ সেই অফিসিয়াল সিলেবাসের আলোকেই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে। তবে প্রতিটি অধ্যায়ের ইন-ডেপ্থ ও অ্যাডভান্সড কনসেপ্ট আয়ত্ত রাখা আবশ্যক।
📱 অভ্যাস (Obhyash) প্ল্যাটফর্মে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্র্যাকিং প্রস্তুতি
বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো নিয়মিত টাইমড প্র্যাকটিস ও নিজের ভুলগুলোকে সংশোধন করা। অভ্যাস প্ল্যাটফর্মে রয়েছে:
- বুয়েট বিগত ২০ বছরের ফুল সলভড প্রশ্নব্যাংক: প্রতিটি অধ্যায়ের প্রতিটি বুয়েট প্রশ্ন স্টেপ-বাই-স্টেপ ডিটেইল্ড ব্যাখ্যাসহ।
- অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ভিত্তিক লাইভ মক টেস্ট: ঠিক বুয়েট প্রিলিমিনারির মতো ৬০ মিনিটে ১০০ এমসিকিউ ও নেগেটিভ মার্কিংসহ রিয়েল-টাইম এক্সাম সিমুলেশন।
- স্মার্ট মিস্টেক নোটবুক (AI Mistake Notebook): যে যে ম্যাথ বা থিওরিতে তোমার ভুল হবে, অভ্যাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেগুলোকে আলাদা করে রাখবে যাতে পরীক্ষার আগের সপ্তাহে রিভিশন দেওয়া যায়।
তোমার বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজই বিনামূল্যে প্র্যাকটিস শুরু করো অভ্যাস ওয়েব অ্যাপে (obhyash.com)।
বুয়েট অ্যালামনাই ও মেন্টর দল
অভ্যাস টিম স্মার্ট প্রযুক্তি এবং পরীক্ষিত শিক্ষার কৌশলগুলির মাধ্যমে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের তাদের একাডেমিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
পড়াশোনাকে অভ্যাসে পরিণত করো এখনই!
বোর্ড প্রশ্ন, শর্টকাট টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ডে হাজারো শিক্ষার্থীর সাথে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে যুক্ত হও অভ্যাসে।
নিউজলেটারে যোগ দাও
নতুন পোস্ট প্রকাশ হলে সরাসরি ইমেইলে পাবেন